Walton Primo ZX3 Hands on Review

Oct 31 • রিভিউ, স্মার্টফোন • 163 Views • No Comments on Walton Primo ZX3 Hands on Review

এবার মোটামুটি একটা লম্বা সময়ের পর Walton তাদের নতুন ফ্লাগশিপ ZX3 স্মার্টফোনটি বাজারে আনল। Walton এর ফ্লাগশিপ মানেই হাই বাজেটের স্মার্টফোন, আর সাথে বড়সড় স্পেসিফিকেশন।আজ হাজির হলাম ডিভাইসটির সম্পূর্ণ হ্যান্ডস অন রিভিউ নিয়ে।
এক নজরে ডিভাইসটির স্পেসিফিকেশন দেখে নিনঃ

ডিসপ্লে ৬ ইঞ্চি ফুলএইচডি  আইপিএস ডিসপ্লে; ১৯২০X১০৮০ রেজ্যুলেশন
অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড ৭ নোগাট
প্রসেসর ২.৫ গিগাহার্জ অকটা কোর প্রসেসর
র‌্যাম ৪ জিবি
ইন্টারনাল স্টোরেজ/ রোম ৬৪ জিবি
জিপিউ মালি ৮৮০
মেমোরী কার্ড স্লট আছে, সর্বোচ্চ ২৫৬ জিবি পর্যন্ত
রিয়ার ক্যামেরা ১৩ মেগাপিক্সেল + ৫ মেগাপিক্সেল
ফ্রন্ট ক্যামেরা ২০ মেগাপিক্সেল
সিম সাপোর্ট ১ মাইক্রো সিম + ১ ন্যানো সিম
ব্যাটারী ৪৫৫০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারী
মূল্য ৩৩,৯৯০ টাকা

আনবক্সিং হিসাবে ডিভাইসটিতে থাকছেঃ
স্মার্টফোনটির সাথে থাকছে চার্জিং অ্যাডাপটার, ইউএসবি ডাটা ক্যাবল, হেডফোন, ফ্লিপ কভার, এক্সট্রা দুই সেট ইয়ারবাড, ইউজার ম্যানুয়াল বুক ও ওয়ারেন্টি কার্ড।
ফ্যাবলেট টাইপ স্মার্টফোন এটি। বুঝতে সমস্যা হওয়ার কথা না, ডিভাইসটি একটি টার্গেটেড কাস্টমারদের কথা বিবেচনা করে বিল্ড করা হয়েছে। স্মার্টফোনটিতে ৬ ইঞ্চি এর বিগ প্যানেল থাকছে। যারা বিগ ডিসপ্লের ফোন ব্যবহার করতে পছন্দ করেন এটা তাদের জন্য। আকারে বেশ বড়সড় স্মার্টফোন এটি। একহাতে ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব। আর ডিভাইসটি সলিড মেটাল বিল্ড হওয়াই স্মার্টফোনটির ওয়েট ও অনেক বেশী, ২২৬ গ্রাম। শুধুই মেটাল বিল্ড তাই ওভার ওয়েট ব্যাপারটা টিক তা নই, ডিভাইসটিকে লম্বা সময় ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে থাকছে ৪৫৫০ মিলি আম্পিয়ারের বিগ ব্যাটারি।
বিগ ডিসপ্লের স্ক্রীনের সাথে সলিড মেটাল বিল্ড আর লম্বা সময় ব্যাটারি ব্যাকআপ দিবে এমন স্মার্টফোন নিতে হলে সাইজ আর ওয়েটটা একটু কন্সিডার করে নিতেই হবে। তারপরও হাতে নিলে বুঝতে পারবেন ডিভাইসটি দেখতে কিন্তু অনেকটা স্লিম।
বিল্ড কোয়ালিটিতে চলে আসি, জেডএক্স সিরিজের প্রতিটা ফোনের বিল্ড কোয়ালিটির ধারাকে অব্যাহত রেখেছে ZX3 স্মার্টফোনটি। স্মার্টফোনটিতে ১৩ মেগা পিক্সেল এবং ৫ মেগা পিক্সেলের দুইটি রেয়ার ক্যামেরা রয়েছে। রেয়ার প্যানেলের ২টি ক্যামেরা পাশাপাশি থাকায় ডিভাইসটি দেখা মাত্রই যে কারও পছন্দ হবে। ক্যামেরা পোর্শনটি কিছুটা আপলিফট আর এর সাইড গুলোতে সিএনসি কাটিং এর্জ ফিনিশিং দেওয়া হয়েছে। ডিজাইনকে নিখুঁত বলাই যেতে পারে কারণ ফ্রন্ট সার্ফেসে রাখার সময় ক্যামেরার গ্লাসে যেন স্ক্রার্স না পরে সে জন্য ক্যামেরাটি সার্ফেস থেকে স্লাইডলি নিচুতে রাখা হয়েছে।
পাশেই থাকছে এলইডি ফ্ল্যাশ। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল, প্রথম দেখাতে মনে হতে পারে ডিভাইসটিতে ডুয়েল এলইডি ফ্ল্যাশ দেওয়া হয়েছে। আসলে একটি সিঙ্গেল এলইডি ফ্ল্যাশ আর নিচের অংশটি আইআর বলাসটার।
ফ্রন্ট প্যানেলের উপরের অংশে থাকছে 20 মেগা পিক্সেলের ক্যামেরা, স্পিকার, ফ্রন্ট এলইডি ফ্ল্যাশ আর নোটিফিকেশান লাইট। ফ্রন্ট প্যানেলটিকে প্রটেক্ট করার জন্য তৃতীয় প্রজন্মের করনিং গোরিলা গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে। নিচে থাকছে ক্যাপাসিটিভ ট্যাঁচ কী। হোম বাঁটনটির রিপ্লেস হিসাবে ফিঙ্গের প্রিন্ট সেন্সর দেওয়া হয়েছে। 2.5ডি কার্ভড গ্লাস ব্যবহার করায় সাইড থেকে ডিভাইসটি দেখতে বেশ প্রিমিয়াম লাগে।
লেফট প্যানেলে থাকছে পাওয়ার বাঁটন ও ভলিউম রকার। পাওয়ার বাঁটনটিতে রেড লাইন বর্ডার ফিনিশং দেওয়া হয়েছে।
রাইট প্যানেলে থাকে হাইব্রিইড স্লট।
বোটম প্যানেলটি দেখলে মনে হতে পারে ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট দেওয়া হয়েছে। এটি আসলে মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট। স্পিকার গ্রিল গুলো নাইসলি ডিজাইনড। আর টপ প্যানেলে থাকছে অডিও জ্যাকপোর্ট।
অপারেটিং সিস্টেম হিসাবে অ্যান্ড্রয়েড 7.0 ব্যবহার করা হলেও ইউআইটি পুরোপুরি কাস্টমাইসড। কাস্টম ইউআই এমিগো 4.0 ব্যবহার করা হয়েছে। বেশ হেভি ইউআই। সবকিছুই কাস্টমাইসড। হয়তো জেডএক্স সিরিজের আগের স্মার্টফোন গুলোর কথা মনে আছে। আগের ইউআইটি ব্যবহার করা হয়েছে কিন্তু আপগ্রেটেড ভার্সন।
উপর থেকে স্লাইড করলে নোটিফিকেশান প্যানেলটি পেয়ে যাবেন আর নিচে থেকে উপরে স্লাইড করলে অ্যান্ড্রয়েডের কুইক কন্ট্রোল বারটি পেয়ে যাবেন। এটিও কাস্টমাইসড। ইউআইটিতে কোন অ্যাপ ড্রায়ার থাকছে না। বেশ কিছু প্রি লোডেড সফটওয়্যার বিল্ট ইন ভাবেই পেয়ে যাবেন লাইকঃ চাইল্ড মুড, মোবাইল অ্যান্টি-থেপ্ট, ডেডিকেটেড সিস্টেম ম্যানেজার অ্যান্ড ওয়েদার অ্যাপ ছাড়াও থাকছে থীমপার্ক। থীমপার্কের ভিতরে বেশ কিছু থীম ছাড়াও এইচডি কোয়ালিটি ওয়ালপেপার পেয়ে যাবেন। একটু আগেই আইআর বালসটারের কথা বলেছিলাম, বিল্ট ইন ভাবেই zazaRemote অ্যাপটি রয়েছে। এটি ব্যবহার করে অলমোস্ট সব রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইস গুলো কন্ট্রোল করতে পারবেন।
স্মার্টফোনটির সেটিংস প্যানেলটি সম্পূর্ণটায় কাস্টমাইসড। থাকছে স্মার্ট আই প্রটেকশন অ্যাপ। লম্বা সময় স্মার্টফোনটি বই পড়লেও আপনার চোখের ক্ষতি হবে না।
আরও বেশ কিছু সেটিংস “মোড় সেটিংস” গুলোর মধ্যে পেয়ে যাবেন। অনেক গুলো গেসচার অপশন পেয়ে যাবেন। ড্র স্ক্রীন গেসচার গুলো বেশ ইফেটটিভ।
এর্জ বার নামে ভেরি স্পেসাল ফিচার রয়েছে ডিভাইসটিতে। আপনি ফিঙ্গার প্রিন্টের যে সাইডে স্লাইড করবেন স্ক্রীনের সেই পাশে এর্জ বার শো করবে। ইচ্ছা করলেই আপনি আপনার পছন্দের অ্যাপ গুলো সেট করে রাখতে পারেন।
আরও রয়েছে সাসপেন্ড বাঁটন। অনেকটা আইফোনের মতই একটা রেসপনসিভ বাটন স্ক্রীনে শো করবে। ইজিলি লক, ব্যাক, হোম এবং অন হ্যান্ড অপারেশন গুলোর মত টাস্ক পারফর্ম করতে পারবেন।
ডিভাইসটি ওটিজি এনেবল একটি ডিভাইস। ফিচারটি অ্যাক্টিভ করতে রিভার্স চার্জ অ্যান্ড ওটিজি অপশনটি এনেবল করে নিতে হবে।
ডিভাইসটির সেটিংস প্যানেলে একটা ফিচার ট্যাব অ্যাড করা হয়েছে। ডিভাইসটির সব ফিচার গুলো এখানে মেনশন করা হয়েছে। ক্যামেরা পোর্টরেট মুড, বুকয়ে সেলফি এখান থেকে ডিরেক্ট অ্যাক্সেস পেয়ে যাবেন।
সেলফি অ্যালবামটা ভালো ছিল। সব ছবির মধ্যে আপনার সেলফি গুলো হারিয়ে যাবেন না। সেলফি নামে একটি ফোল্ডারের ভিতর ক্যামেরা দিয়ে তোলা সব সেলফি ফটো গুলো থাকবে। খুব সহজেই পছন্দের সেলফি গুলো খুজে নিতে পারবেন।
স্মার্টফোনটি ফাস্ট চার্জ ফিচারটি সাপোর্টেড। পুরো ডিভাইসটি চার্জ হতে মাত্র দের ঘণ্টা সময় লাগে।
পাওয়ার ম্যানেজার অ্যাপটি কিছু সময় অনেক হেল্পফুল। ইজিলি পাওয়ার মুড সিলেক্ট করে ব্যাটারি অপটিমাইজ করতে পারবেন। মাক্স অডিওটি বেটার অডিও পারফরমেঞ্চ দিবে।
এসটিরিউর সিস্টেমে ডিভাইসটির এয়ারপিছও লাউড স্পিকারের মত কাজ করবে এর ফলে মাল্টিমিডিয়া কিংবা গেমিংয়ে বেটার সাউন্ড কোয়ালিটি পাবেন।
স্মার্টফোনটির ফিঙ্গার প্রিন্টটি সত্যি ইম্প্রেসিভ ছিল। 99% টাইম একুরেট এবং অনেক কাজ করেছে।
তাছাড়া অ্যান্ড্রয়েডের স্লিপ্ট স্ক্রীন ফিচার তো থাকছে। বিগ স্ক্রীনের এই ডিভাইসটিতে স্লিপ্ট স্ক্রীন ফিচারটি ব্যবহার করার মজাই আলাদা।
আর অ্যান্টি ভাইরাস ও ডাটা ক্লোনের মত ফিচার গুলো থাকছে।
ডিভাইসটিতে ৬ ইঞ্চির ডিসপ্লে দেওয়া হয়েছে। ফুল এইচডি ডিসপ্লেটি ক্লিয়ার আর একুরেট কালার রিপ্রেজেন্ট করে। ভিডিও গুলো দারুণ ভাবে উপভোগ করবেন।
বিগ এই ডিসপ্লেটি ১০ টি ফিঙ্গার মাল্টিটাস্ক সাপোর্ট করে।
এবার হার্ডওয়ার নিয়ে কথা বলব। ডিভাইসটিতে 2.5 গিগাহার্জ মিডিয়াটেক অকটা কোর প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। আর জিপিইউ থাকছে মালি টি ৮৮০
টোটাল রাম থাকছে ৪ জিবি। আর ইন্টারনাল ষ্টোরেজ হিসাবে ৬৪ জিবি মেমোরি প্রোভাইড করছে ওয়ালটন। এক্সটা ২৫৬ জিবি মেমোরি এক্সপ্যান্ড করতে পারবেন এসডি কার্ড ব্যবহার করে।
এই ডিভাইসটিতে সেন্সরের অভাব নেই। অনেকগুলো সেন্সর থাকছে।
ডিভাইসটির গেমিং এক্সপেরিয়েন্স ভালো ছিল। আমরা বেশ কিছু এইচডি খেলেছি। দেখে নিতে পারেন। তেমন কোন হিটিং ইস্যু ছিল না।
এবার ডিভাইসটির মেইন এট্রাকশন এর ক্যামেরা নিয়ে কথা বলব। ডিভাইসটিতে রেয়ার ক্যামেরা হিসাবে ২ টি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। ১৩ মেগা পিক্সেল এবং ৫ মেগা পিক্সেল। প্রাইমারি ক্যামেরা হিসাবে ১৩ মেগা পিক্সেল ক্যামেরা থাকছে। আলাদা করে ৫ মেগা পিক্সেল ক্যামেরাটি ব্যবহার করতে না পারলেও এটি মূলত বুকে ইমেজ গুলোতে ডেপ্ট ইফেক্ট দেওয়ার জন্য ব্যবহার হয়।
ডিভাইসটির পোর্টেড মুডে ক্যামেরা অ্যাপাচার কন্ট্রোল করে দারুণ সব বুকে ইমেজ তুলতে পারবেন।
তাছাড়াও বেশটি ক্যামেরা মুড রয়েছে। প্রফেশনাল ক্যামেরা মুডটি ব্যবহার করে এক্সপোজার, আইএসও, হোয়াইট ব্যালেন্স, শাটার স্পীড এবং মানুয়ালি ফোকাস কন্ট্রোল করে ছবি তুলতে পারবেন।
তাছাড়া আরও অনেক মুডস পেয়ে যাবেন লাইক Panorama, slow motion, time-lapse, night mood ছাড়াও আরও বেশ কিছু মুড।
ডিভাইসটিতে ২০ মেগা পিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা রয়েছে। সেলফি কোয়ালিটি জাস্ট ওয়াও। ইভেন ডিভাইসটির ফ্রন্ট ক্যামেরা দিয়ে বুখে সেলফি তুলতে পারবেন। থাকছে ফেস বিউটি মুড।
ডিভাইসটির ফ্রন্ট কিংবা রেয়ার ক্যামেরা দিয়ে ফূল এইচডি ভিডিও রেকর্ড করতে পারবেন। ভিডিও কোয়ালিটি দারুণ ছিল।
ডিভাইসটি দিয়ে তোলা আমাদের ছবি গুলো দেখে নিতে পারেন।
৪৫৫০ মিলি আম্পিয়ারের ব্যাটারি ব্যাকআপ ভালো ছিল। আমরা ৫ ঘণ্টা মত স্ক্রীন অন টাইম পেয়েছি। নর্মাল ব্যবহারে এক থেকে দের দিন পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ পেয়ে যাবেন।

এবার ডিভাইসটির সিকিউরিটি নিয়ে কথা বলব, ফিঙ্গার প্রিন্ট সেন্সরের সাথে থাকছে স্মার্টলক ফিচার। On-body detection, Trusted Places, Truested Devices, Trusted Face আর Trusted Voice এর মধ্যে Trusted Face Recognition  অপশনটি পারফেক্টলি কাজ করছিল। ৯০% সময় একুরেট কাজ করে।
হাই বাজেটে ডিভাইস কেনার আগে অনেক গুলো প্রশ্ন মাথায় নিয়েই ডিভাইস কিনতে হয়। সেটা হোক বিল্ড কোয়ালিটি কিংবা পারফরমেঞ্চ, ব্যাটারি ব্যাকআপ কিংবা ক্যামেরা, কোন কিছুতেই কনসিডার করা যাবে না। Walton ZX3 সব গুলো ক্রায়টেরিয়া ফুলফিল করতে পারে কিনা সেটা আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
আপনাদের মতামত জানবেন। রিভিউটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

«