Walton Primo X4 Pro Hands on Review

Jan 31 • রিভিউ, স্মার্টফোন • 805 Views • No Comments on Walton Primo X4 Pro Hands on Review

নতুন বছরে Walton Mobile নতুন চমক হাজির করলো যা হচ্ছে Walton Primo X4. মূলত এটি পূর্বের X4 এর আপগ্রেডেড ভার্ষন যাতে প্রসেসর, ডিসপ্লে, ব্যাটারি, স্টোরেজ সহ কিছু সফটওয়ার আপগ্রেড করা হয়েছে । বর্তমানে এটি Walton এর ফ্লাগশিপ ডিভাইস এবং ফ্লাগশিপ মানেই স্পেশ্যাল কিছু।
Walton Primo X4 Pro এর বক্স প্রিমো X4 এর মতই। বক্স এর ভেতর প্রথমেই থাকছে ফোনটি। তারপর ফোনটির প্রোটেকশন এর জন্য থাকছে
একটি লেদার ফ্লিপ কভার,
এক্সট্রা স্ক্রিন প্রোটেকটর,
ডাটা ক্যাবেল,
ফাস্ট চার্জিং অ্যাডাপ্টার ,
হেডফোন,
ওটিজি ক্যাবেল,
ইউজার ম্যানুয়াল গাইড এবং
ওয়ারেন্টি কার্ড
 
Walton Primo X4 Pro ডিভাইসটি সম্পুর্ন মেটাল বিল্ড । এতে বর্ডার  এন্ড কর্নার কাটিং এ সিএনসি ক্রাফটিং টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে । যার কারনে ডিভাইসের ডিজাইন খুবই প্রিমিয়াম। তার সাথে খুব অল্প বেজেল যুক্ত 2.5D curved ডিসপ্লে দিচ্ছে ডিজাইনে এক্সট্রা এজ। ডিভাইসের পিছনে কমান্ড লাইন বরাবর উপরে পাবেন ক্যামেরা বাম্প সহ ক্যামেরা, নয়েজ ক্যান্সেলেশন মাইক ও ফ্লাশলাইট এবং একটি রাউন্ড স্পেস এ Walton লোগো।
অনেকের কাছেই Walton লোগোর জায়গাটি ফিংগারপ্রিন্ট মনে হতে পারে তবে এটি কেবলই একটি লোগো এবং এর কারনে ডিভাইসটির ব্যাক লুক আরো প্রিমিয়াম মনে হয়।  ক্যামেরার উপরে এবং একদম নিচে রয়েছে দুটি প্লাস্টিক ব্যান্ড যা নেটওয়ার্ক রিসিভে সাহায্য করবে এবং বাড়তি সুন্দোর্য প্রদান করছে ফোনটিকে।
ডিভাইসের ডান পাশে পাবেন পাওয়ার এবং ভলিউম বাটন দুটোই এবং সিম কার্ড স্লট। বামপাশে পাবেন মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট যা 128 জিবি পর্যন্ত এক্সপেন্ডেবল। নিচে পাবেন দুটো স্পিকার গ্রিল যার মধ্যে একটিতে স্পিকার এবং আরেকটি প্রাইমারি মাইক্রোফোন দেওয়া। দুটো স্পিকার গ্রিল এর মাঝে আছে ইউএসবি পোর্ট।
এবার উপরের দিকে গেলে পাবেন 3.5 মিলিমিটার অডিও জ্যাক পোর্ট এবং আইআর বাল্সটার । আইআর বাল্সটার দিয়ে মূলত বিভিন্ন ডিভাইস রিমোটলি ব্যবহার করতে পারবেন যার মধ্যে স্মার্ট টিভি, এসি, প্রজেক্টর ইত্যাদি উল্লেখ্যযোগ্য। ফ্রন্ট প্যানেলের উপরে পাবেন ফ্রন্ট ক্যামেরা, হেডপিস, নোটিফিকেশন এলইডি লাইট এবং সেন্সরস। ডিসপ্লের নিচে পাবেন দুই পাশে দুটি টাচ ক্যাপাসিটিভ বাটন্স এবং মাঝে একটি ফিজিকাল হোম বাটন প্লাস ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর। ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটির ভিত্তিতে ডিভাইসটি এককথায় অসাধারন । যে কাউকে আকৃষ্ট করার ক্ষমতা রাখে।
Walton Primo X4 pro তে ব্যবহার করা হয়েছে 5.5 ইঞ্চি ফুল এইচডি সুপার amoled ডিসপ্লে যার পিপিআই 400। সুপার amoled ডিসপ্লে হিসাবে এর কোয়ালিটি বেশ ভালো। তার সাথে এর 2.5D Curved ডিসপ্লে গ্লাসের কারনে সবকিছু আরো ভালোভাবে ফুটে ওঠে। এর ডিসপ্লের প্লাস পয়েন্ট হচ্ছে Corning Gorilla Glass 4 ব্যবহার করা হয়েছে প্রোটেকশন এর জন্য।
তাছাড়া যুক্ত করা হয়েছে Gloves Pattern মুড যা দ্বারা gloves বা হাতমুজা পড়া অবস্থায় ও ডিসপ্লে টাচ ইনপুট নিবে সঠিক ভাবে ।
Primo X4 pro তে ব্যবহার হয়েছে Amigo ui এর মডিফাইড ভার্ষন । এর এন্ড্রয়েড ভার্শন হচ্ছে Android 6.0 মার্শম্যালো। তবে সবকিছু কাস্টমাইজড হওয়ায় স্টক লুকের কিছুই নেই । আইকন, সেটিংস, নোটিকেশন টাইলস সহ সবই ভিন্নরকম এবং থিমের সাথে চেঞ্জেবল । তাই এতে ইনবিল্ট থিম পার্ক দেওয়া হয়েছে।
তাছাড়া Amigo ui এর আরেকটু ভালো সুবিধা হচ্ছে এটি হেভিলি অপ্টিমাইজড । এতে এপ ড্রয়ার নেই । উপর থেকে নিচে স্লাইড করলে পাবেন নোটিফিকেশন প্যানেল এবং নিচ থেকে উপরে কুইক টোগল প্যানেল।সফটওয়ার ওয়াইজ আপগ্রেড এর মধ্যে আছে Split window ফিচার যা দ্বারা একই সাথে দুটি অ্যাপস একসাথে ব্যবহার করতে পারবেন । এটি খুবই হ্যান্ডি এবং ইউজফুল একটি ফিচার ।
এছাড়াও আছে সাসপেন্ড বাটন যা দ্বারা ছোটো খাটো শর্টকাট যেমন 1 হ্যান্ড মুড, স্ক্রিন লক ইত্যাদি কাজ করতে পারবেন। এর সাথে থাকছে বিভিন্ন গেসচার ইনক্লুডিং ডাবল ট্যাপ টু ওয়েক আপ এন্ড লক।
এছাড়াও থাকছে কিছু ইনবিল্ট অ্যাপ যা খুবই প্রয়োজনীয় যেমন অ্যাপ লকার যা প্রাইভেসির জন্য অনেক অপশন সমৃদ্ধ, থাকছে ক্যামেলিওন থিম মেকার যা দিয়ে ক্যামেরার সামনের দুটি কালার সিলেকট করে মনমতো কালারে লাইভ ওয়ালপেপার এবং থিম বানাতে পারবেন । এছাড়াও থাকছে ফোন ম্যানেজার অ্যাপ, এন্টি থেফট ফিচার ইত্যাদি। মজার ব্যাপার হচ্ছে এতে ইনবিলট একটি স্ক্রিন রেকর্ডার যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে যা দিয়ে ল্যাগবিহিন ভাবে স্ক্রীন রেকর্ড করতে পারবেন। তাছাড়া থাকছে Trash সুবিধাযুক্ত গ্যালারি অ্যাপ যাতে করে ভুলে কোনো ছবি ডিলেট করে দিলে তাৎক্ষনিক তা ফিরত পেতে পারেন।
ডিভাসটিতে Mediatek MT6755 চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে যা 2 ghz 64bit octa core প্রসেসর এবং mali t860  জিপিইউ এর সমন্বয় এ তৈরী । মেমরি সেকশন এ থাকছে 4 জিবি রাম এবং 64 জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ যার মধ্যে প্রায় 52 জিবি ইউজারা ব্যবহার করতে পারবে।
এই পুরো প্যাকেজটিকে জুস দিতে রয়েছে 5000mah এর হিউজ li-po ব্যাটারি । এত বড় ব্যাটারি দ্রুত চার্জ দেওয়ার জন্য ইনক্লুড করা হয়েছে ফাস্ট চার্জিং টেকনোলজি ।
এটি Antutu  এবং Nenamark2 তে স্কোর করেছেঃ
এতে আমরা নোভা ৩, বুলেট ফোর্স এবং Asphalt 8 গেম খেলেছি । প্রত্যেকটা গেম খুব স্মুথলি রান করেছে এবং গ্রাফিক্স ও ছিলো মুগ্ধকর ।
ডিভাইসে এক্সট্রা জুস এড করতে এতে দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু সেন্সর যেমন Accrelerometer, gyroscope, linier acceleration, gravity, rotation vector, light ইত্যাদি ।
স্মার্টফোনটিতে আরেকটি সেন্সর ও আছে যেটি হচ্ছে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর । ডিভাইসের হার্ডওয়ার হোম বাটনে ইমপ্লেমেন্ট করে দেওয়া হয়েছে ফিংগার প্রিন্ট সেন্সরটিকে। ফিংগার প্রিন্ট রিডিং ছিলো বেশ একুরেট এবং ফাস্ট। তবে ডিসপ্লে লক অবস্থায় প্রথমে বাটনে প্রেস করে স্ক্রিন লাইটাপ করে ফিংগার আইডি দিতে হয় বলে অনেকের কাছে স্লো মনে হলেও এটি আসলে অনেক ফাস্ট।
আরেকটি হার্ডওয়ার গত স্পেশালিটি হচ্ছে এর DTS Sound Technology। এর স্পিকার এবং ইয়ারফোন উভয় সাউন্ড এক্সপেরিয়েন্স আপনাকে আমেজড করবে। voice clarity, tune ভ্যারাইটি লেভেল সহ সবকিছু একদম একুরেট ছিলো। তার সাথে dts equilizer দিয়ে নিজের মত Tone tweak করে শুনতে পারবে আপনার পছন্দের গান ।
এতে আছে BSI 16 মেগা পিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা যার অ্যাপারচার ২.০। রিয়ার ক্যামেরাতে বাম্প দেখেই বুঝা যায় বেশ কিছু লেন্স ব্যবহার হয়েছে এতে। রিয়ার ক্যামেরা পার্ফরমেন্স ছিলো অসাধারন । ডে লাইটে ফার্স্ট ক্লাস পিকচার দিয়েছে । লো লাইটে নয়েজ ছিলো তবে well divided artificial light এ ভালো পিকচার দিতে পেরেছে ।
 
এতে ডিএসএলআর এর মত ম্যানুয়াল মোড এ white balance, shutter speed, focus, exposure ইত্যাদি কন্ট্রোল করা যায় । ক্যামেরা মুড হিসাবে থাকছে প্রফেশনাল, HDR, ফেস বিউটি, GIF, Translation ইত্যাদি যার মধ্যে Translation মোড দ্বারা ডাটা কানেকশন থাকলে ফোন ক্যামেরা দ্বারা বিশ্বের অনেক দেশের ভাষায় লেখা কোনো কিছু নিজের পছন্দমত ভাষায় ট্রান্সলেট করে নিতে পারবেন ।
তবে আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে এর HDR মোড । অবাক করার মত পিকচার ডেলিভার করছে HDR মোড। নরমাল মোডে তোলা ছবিগুলোতে ডিটেইলস ভালো ছিলো । Super amoled ডিসপ্লের কারনে অতিরিক্ত কালারফুল লাগলেও পিকচার কালার ছিলো একুরেট। লো লাইটে সামান্য নয়েজ ও গ্রেন দেখা যাচ্ছিলো যা হওয়াটাই স্বাভাবিক।
কিছু পিকচার স্যাম্পল দেখে নেওয়া যাক –
 
এবার আসি ফ্রন্ট ক্যামেরায় । BSI 13mp ফ্রন্ট ক্যামেরা কোয়ালিটি ভালো । ফেস বিউটি সহ কিছু ফিচার আছে এতে। ভালো লাইটে এর থেকে ভালোমানেরই পিকচার পাওয়া যায়। লো লাইটে কিছুটা ব্লারি হয় ছবিগুলো যা ফ্রন্ট ক্যামেরার জন্য স্বাভাবিক। ওভারল ফ্রন্ট ক্যামেরা পার্ফরমেন্স সন্তোসজনক। থাকছে স্ক্রীন ফ্ল্যাশ যা লো-লাইটে একটু হলেও ছবি তুলতে সাহায্য করবে।
 
সবশেষে আসি ব্যাটারি সেকশন এ। এর হিউজ 5000 mah ব্যাটারি হেসে খেলে ১ দিন পার করে ফেলতে পারে । তার সাথে সাহায্য করার জন্য ফাস্ট চার্জিং তো আছেই । এছাড়া একটি স্পেশ্যাল ফিচার আছে, Extreme mode।
 
ডিভাইসটি আমার কাছে ভালো মনে হয়েছে। বাজেটের দিকে তাকালে একটু বেশী মনে হয়েছে আমার কাছে। আর বাকী সব ঠিক আছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

« »