Walton Primo RM3s Hands on Review

Jul 30 • রিভিউ, স্মার্টফোন • 123 Views • No Comments on Walton Primo RM3s Hands on Review

সম্পূর্ণ মেটাল বিল্ডের দারুণ ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজের নতুন একটি ফোন বাজারে লঞ্ছ করেছে Walton। শুধুমাত্র বিল্ড কোয়ালিটি নয়, Primo RM সিরিজের নতুন স্মার্টফোন RM3s ডিভাইসটি বেশ বড়সড় স্পেসিফিকেশন নিয়ে হাজির করেছে  Walton। অকটা কোর প্রসেসর, ৩ জিবি র‌্যাম, ৩২ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজের সাথে থাকছে ৪০০০ মিলি আম্পেয়ারের বিগ ব্যাটারি। কেমন হবে ডিভাইসটি? রিভিউটি পরে ফেলুন।

ডিসপ্লে .৫.২ ইঞ্চি অন-সেল এইচডি  আইপিএস ডিসপ্লে; ১২৮০X৮০০ রেজ্যুলেশন
অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড ৭ নোগাট
প্রসেসর ১.৩ অকটা কোর প্রসেসর ৬৪ বিট
র‌্যাম ৩ জিবি
ইন্টারনাল স্টোরেজ/ রোম ৩২ জিবি
জিপিউ মালি টি৭২০
মেমোরী কার্ড স্লট আছে, সর্বোচ্চ ১২৮ জিবি পর্যন্ত
রিয়ার ক্যামেরা বিএসআই ১৩ মেগাপিক্সেল
ফ্রন্ট ক্যামেরা বিএসআই ৮ মেগাপিক্সেল
সিম সাপোর্ট ডুয়েল মিনি সিম
ব্যাটারী ৪০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারী
সেন্সর এক্সেলেরোমিটার ,লাইট এন্ড প্রক্সিমিটি, হল সেন্সর
মূল্য ১৪,৪৯০ টাকা

আন বক্সিং অবস্তা ডিভাইসটির সাথে পাচ্ছেনঃ চার্জিইং অ্যাডাপ্টার, ইউএসবি ডাটা ক্যাবল, হেড ফোন ও ওয়ারেন্টি কার্ড কম্বাইন উইথ ইউজার ম্যানুয়াল বুক।

প্রথমত, ডিভাইসটির বিল্ড কোয়ালিটি আমার কাছে দারুণ লেগেছে। সম্পূর্ণ মেটাল বিল্ডের এই ডিভাইসটিতে ৫.২ ইঞ্চি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে তারপরও এর স্ট্যান্ডার্ড সেপের কারণে ডিভাইসটি মোটেও তেমন একটা বড় মনে হবে না। অন-হ্যান্ড অপারেশন গুলো সাচ্ছন্দে করতে পারবেন।

সম্পূর্ণ সিলড এই ডিভাইসটির ব্যাক প্যানেলটিতে ম্যাট ফিনিশ দেওয়া হয়েছে। ডিভাইসটি  সম্পূর্ণ মেটালের হলেও রেয়ার প্যানেলের টপ এবং বোটম অংশটি প্লাসটিকের। একটা জিনিস আমার কাছে ভালো লেগেছে, রেয়ার ক্যামেরাটি সার্ফেস থেকে কিছুতা ডাউন লিফটেড।

যার ফলে প্লেন কোন সার্ফেসে রাখলে ডিভাইসটির ক্যামেরাটিতে কোন স্ক্রাস পড়ার সম্ভাবনা নেই। রেয়ার ক্যামেরাটির নিচে থাকছে এলইডি ফ্ল্যাশ। আর বোটম অংশটিতে লাউড স্পিকার রাখা হয়েছে।

লেফট প্যানেলটিতে রয়েছে হাইব্রিড স্লট। মানে এখানে আপনার ২ টি সিম অথবা একটি সিমের পাশাপাশি মেমোরি কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন।

রাইট প্যানেলে রয়েছে পাওয়ার বাটন ও ভলিউম রকার।

বোটম প্যানেল থাকছে প্রাইমারি মাইক্রোফোন ও ইউএসবি পোর্ট। আর টপ প্যানেলে দেওয়া হয়েছে অডিও জ্যাকপোর্ট। ডিভাইসটির সাথে বেশ ভালোমানের হেডফোন প্রোভাইড করেছে Walton।

সাইড প্যানেলের কাটিং এর্জ ফিনিশইং আর ডিফারেন্ট টেক্সচার ফিনিশ ডিভাইসটিকে সত্যি বেশ প্রিমিয়াম করে তুলেছে।

ফ্রন্ট প্যানেলে থাকছে বিএসআই ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, নোটিফিকেশন লাইট, স্পিকার এবং সেন্সরস।

ডিভাইসটিতে ৫.২ ইঞ্চির অন-সেল আইপিএস ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। ২.৫ডি গ্লাস ব্যবহার করায় ডিভাইসটি মেটাল সার্ফেস থেকে কিছুটা আপলিফটেড মনে হবে। কিন্তু সমস্যা হল ডিভাইসটির স্ক্রীন প্রটেকশনের জন্য কিছুই থাকছে না। Walton আলটারনেটিভ হিসাবে স্ক্রীন  প্রটেকটর প্রোভাইড করছে।

ডিভাইসটিতে কোন ক্যাসিটিভ ট্যাস কী ব্যবহার করা হয়নি। তার পরিবর্তে অন স্ক্রীন কী পেয়ে যাবেন। থাকছে ডেডিকেটেড হোম বাটন।

আসলে হোম বাটনটি একটি ফিঙ্গার প্রিন্ট সেন্সর।

ওভারঅল ডিভাইসটির বিল্ড কোয়ালিটি আমার কাছে ভালোই মনে হয়েছে।

ডিভাইসটি দুইটি দারুণ কালারে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। গোল্ডেন ও মোচহা।

ডিভাইসটিতে অ্যান্ড্রয়েড ৭.০ নোগাট ব্যবহার করা হয়েছে। ইউজার ইন্টারফেসটিকে কিছুটা কাস্টমাইড করা হয়েছে। আসলে মূলত আইকন গুলো পরিবর্তন করা হয়েছে।

তাছাড়া বাকী সবকিছুই ষ্টক অ্যান্ড্রয়েডের মত। ডিভাইসটি যথেস্ট ফাস্ট আর ট্রান্সিশনে কোন প্রকার ল্যাগ নেই। তাছাড়া অ্যান্ড্রয়েড নোগাটের বাকী সব ফিচার ডিভাইসটিতে বিদ্যমান।

অনস্ক্রীন বাটনে এক্সটা কী থাকছে যার ফলে অনস্ক্রীন বাটন গুলো সহজে শো অথবা হাইড করা যাবে।

হাইড অবস্তাই হোম বাটনটিতে স্লাইড করলে ব্যাক বাটন হিসাবে কাজ করবে। কিন্তু রিসেন্ট অ্যাপ প্যানেলটি দেখতে হলে অনস্ক্রীন বাটন অপশনটি আকটিভ করতে হবে। যা আমার কাছে কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হয়েছে।

ডিভাইসটির স্ক্রীনটি আমার কাছে বেশ ভালোই মনে হয়েছে। ডিভাইসটির স্ক্রীন রেজুলেশন ১২৮০ * ৭২০ পিক্সেল, যা ১৬.৭ মিলিয়ন কালার সাপোর্ট করে। কালারটন আমার কাছে ভালোই লেগেছে।

ডিভাইস ৫টি পর্যন্ত মাল্টিট্যাস সাপোর্ট করে।

ডিভাইসটিতে ভিডিও গুলো দারুণ প্লে হয়েছে আর ভিউইং অ্যাঙ্গেলও আশানুরুপ ছিল।

ডিভাইসটি ওটিজি এনাবল। সুতারং সব ইউএসবি পেরিফেরাল গুলো ব্যবহার করতে পারবেন। আর ওটিএ ফিচার তো থাকছে।

ফিঙ্গার প্রিন্ট সেন্সরটি মোটামুটি। রেসপন্স টাইম আমার কাছে একটু স্লো মনে হয়েছে।

সিস্টেমকে ব্যাকআপ দিচ্ছে ১.৩ গিগাহার্জের অকটা কোর প্রসেসর। আর জিপিইউ হিসাবে থাকছে মালি টি ৭২০।

ডিভাইসটিতে ৩ জিবি র‌্যাম থাকছে। এই বারতি র‌্যাম মাল্টিটাস্কিইং কিংবা অন্যান্য অপারেশন গুলো স্মুথ করবে।

রোম হিসাবে ডিভাইসটিতে ৩২ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ পাবেন। তারপরও বারতি স্টোরেজের জন্য এসডি কার্ডের মাধ্যমে ১২৮ জিবি পর্যন্ত এক্সপান্ড করতে পারবেন।

গেমিং পারফর্মেঞ্চ আমার কাছে ভালোই লেগেছে। হাই গ্রাফিক্স সেটিংস কিছুটা ল্যাগ নোটিসেবল হলেও অপটিমাল সেটিংসে গেম গুলো ভালোভাবেই এঞ্জয় করতে পারবেন।

ডিভাইসটিতে রেয়ার ক্যামেরা হিসাবে বিএসআই ১৩ মেগা পিক্সেল ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। ক্যামেরা ইন্টারফেসটি একেবারেই ষ্টক হলেও কিছুটা কাস্টমাইজেবল করা হয়েছে, যেমন রয়েছে বেশ কিছু ফিলটার মুড।

ফোকাসিইং স্পীড কিছুটা স্লো ছিল আর শাটার স্পীডটাও আমার কাছে স্লো মনে হয়েছে। এই বাজেটে আর একটু স্টাবেল আশা করছিলাম। সানলাইটে পিকচার কোয়ালিটি ভালোই ছিল কিন্তু লো লাইট পারফর্মেঞ্ছ আর একটু ইম্প্রোভড হওয়ার দরকার ছিল।

ফ্রন্ট ক্যামেরা হিসাবে থাকছে বিএসআই ৫ মেগা পিক্সেলের ক্যামেরা। ফ্রন্ট ক্যামেরাটি আমার কাছে ভালোই মনে হয়েছে। সেলফি কোয়ালিটি ছিল মোটামুটি। তাছাড়াও থাকছে ফেস বিউটি মুড।

নরলাম ডে টু ডে ব্যবহারে ডিভাইসটির ৪০০০ মিলি আম্পের ব্যাটারি ১ দিনের মত ব্যাকআক দিবে। আর এর ইন্টিলিজেন্ট পাওয়ার সেভিং মুড এনেবল করে ব্যাটারি ব্যাকআপ কিছুটা বাড়াতে পারবেন।

ডিভাইসটির বেঞ্ছমার্ক স্কোর গুলো দেখে নিনঃ

এইতো এই ছিল Primo RM3s এর হ্যান্ডস অন রিভিউ। বাজেটের অনুযায়ী স্মার্টফোনটি খারাপ না। কিন্তু এই বাজেটেই অন্য কোম্পানি গুলো ভালো ডিভাইস অফার করেছে। দেখার বিষয় সেই দৌড়ে Primo RM3s কতটা টিকে থাকতে পারে। আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

« »