Walton Primo HM4i Hands on Review

Jun 7 • রিভিউ, স্মার্টফোন • 359 Views • No Comments on Walton Primo HM4i Hands on Review

সাধ্যের মধ্য সবটুকু সুবিধা পেতে কে না চায়, আর সেটা যদি হয় মেইড ইন বাংলাদেশের তৈরি স্মার্টফোন তাহলে তো কথায় নেই। Primo Hm4 আর Primo Hm4I এর মধ্যে প্রধান ও এক মাত্র পার্থক্য হল Primo Hm4I স্মার্টফোনটি দেশেই তৈরি করা হয়েছে। ওয়ালটনের HM সিরিজ মানেই বিগ ব্যাটারি। সেই তকমাটা ধরে রাখতে এবারও সক্ষম হয়েছে, থাকছে ৩৮০০ মিলি আম্পের বিগ ব্যাটারি। পাশাপাশি বাজেট বিবেচনাই একেবারে কম যাই না স্মার্টফোনটি। তো আর দেরী না করে সম্পূর্ণ রিভিউ নিয়ে আমি লিখন আছি আপনাদের সাথে। সম্পূর্ণ রিভিউটি দেখতে সাথেই থাকুন।

ডিসপ্লে ৫.৫ ইঞ্চি ফুল ভিউ আইপি এস   ডিসপ্লে (১৪৪০*৭২০)
অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড ৭.০ ন্যোগাট
প্রসেসর  ৬৪ বিট – ১.৩ গিগাহার্জ কোয়াড কোর প্রসেসর
র‌্যাম ১   জিবি
ইন্টারনাল স্টোরেজ/ রোম ৮ জিবি
জিপিউ ৪০০
মেমোরী কার্ড স্লট সর্বোচ্চ ৬৪  জিবি পর্যন্ত
 রেয়ার  ক্যামেরা ৮ মেগাপিক্সেল
ফ্রন্ট  ক্যামেরা ৮ মেগাপিক্সেল
সিম সাপোর্ট ১  ন্যানো সিম + ১ ন্যানো সিম
ব্যাটারী ৩৮০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারী
মূল্য ৭৪৯০ টাকা

প্রথমে ই বলে রাখছি এটি একটি লো-বাজেট কিংবা এন্ট্রি লেভেল ইউজারদের ডিভাইস সেই সাথে এটি মেইড ইন বাংলাদেশ ট্যাগে বাজারে এসেছে।

Walton Primo Hm4I দেখতে হুবোহু প্রিভিয়াস HM4+ এর মতো বলতে গেলে ২ জন জমজ ভাই।

ডিভাইস্টির বিল্ড কোয়ালিটি দিয়েই শুরু করা যাক, ডিভাইস্টির ডিজাইন খুব সিম্পল। ব্যাক পার্ট টি প্লাটিক বিল্ড হলেও দেখতে মেটাল বিল্ড মনে হতে পারে, রেগুলার সাইজের ডিভাইস হওয়াতে ইজিলি অপারেট করতে পারবেন। রেয়ার সাইডের নেটওয়ার্ক ব্যান্ড গুলো হাইলি বিজিবল।

ব্যাক পার্টি নন রিমুভেবল সেই সাথে ম্যাট ফিনিশিং আর সেই জন্য কোনো প্রাকার হাতের দাগছোপ পড়া নিয়ে টেনশন করার প্রয়োজন নেই। ব্যাক পার্টি কিছুটা কার্ভড সো ভালো গ্রিপ পাবেন বলে আশা করছি। HM4+ এর মতো এতেও ভলিউম বাটন ও পাওয়ার বাটন গুলো বাম পাশে রাখা হয়েছে আর ডান পাশে থাকছে সিম স্লট ।

 

এই স্মার্টফোনটিতে আপনি একেই সাথে ২ টি সিম ও মেমোরি কার্ড ব্যাবহার করতে পারবেন। নিচেরদিকে শুধু স্পিকার আছে আর উপরে রয়েছে চার্জিংপোর্ট আর অডিও পোর্ট। ফ্রন্ট প্যানেলের উপরের দিকে আছে ফ্ল্যাশ লাইট, সেন্সর, ইয়ার পিস ও 8Mp এর ফ্রন্ট ক্যামেরা আর নিচের দিকে থাকছে লাইট ফ্রি ৩ টি টাচ ক্যাপাসিটিস কি

উপরে একপাশে ক্যামেরা বাম্পারের মাঝে আছে ক্যামেরা ও ফ্লাস, যদিও প্রথম দেখাতে অনেকেই ডুয়াল ক্যামেরা মনে করে থাকে। তার নিচে মাঝে আছে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর।তবে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সরটি অতোটাও একুরেট ছিলো না।

যদিও টাচ করলেই wakeup হওয়ার কথা, তবে টাচ করে কিছুক্ষন হোল্ড করে রাখলে ডিভাইসটি আনলক হয়। তারউপর মাঝে মাঝেই কাজ করে না। সব মিলিয়ে আমি তেমন একটা সন্তুষ্ট ছিলাম না ফিংগারপ্রিন্ট নিয়ে।

এবার এর সফটওয়্যার সেকশনের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে অপারেটিং সিস্টেমে এতে থাকছে Android Nougat 7.0। ডিভাইসের ইউয়াই একেবারে স্টক। তাই আমার মতো স্টক্লাভারদের কাছে বেশ ভালো লাগবে। এটি থেকে একেবারে পিউর স্টকের ফিল পাবেন । সেই সাথে আরো আছে OTA, ছোটো খাটো আপডেট গুলো পেয়ে যেতে পারেন।

ডিভাইসসের মধ্যে 5.5inch এর HD IPS panel এর ডিস্পলে ইউজ করা হয়েছে । ডিসপ্লে রেজুলেশন 1280*720p এবং DPI 267। বুঝাই যাচ্ছে মোটামুটি ভালোই শার্প একটি ডিসপ্লে। ডিস্পলে টি 16 million color supported। বাজেট অনুযায়ী ডিস্পলে্টি বেশ যথেষ্ট ভালো ছিলো । ডিস্পলে কালার রি প্রডাকশন এবং কন্ট্রাস্ট সব কিছুই average।

Day light visiblity তেমন একটা খারাপ ও না আবার ভালো ও না ।ফুল এইচ ডি ভিডিও গুলোর শার্প্নেস এবং ভিউইং আংগেল মোটামোটি । এর ডিটেইলস এবং কালার রিপ্রডাকশন average ছিলো । তবে বাজেটের দিকে বিবেচনা করলে ডিসপ্লেটি ভালো ছিলো।

ফ্রন্ট এবং রেয়ারে ব্যবহার করা হয়েছে BSI sensor যুক্ত 8 megapixel এর ক্যামেরা । দুটো ক্যামেরাতেই আছে ফ্ল্যাস। তাছাড়া ক্যামেরা ইউয়াই স্টক।থাকছে HDR,panarama,Face beauty,color effecs ইত্যাদি মোড। ক্যামেরার লো লাইট পারফরমেন্স মোটামোটি । তারপরেও BSI sensor এর জন্য তূলোনামূলক ভাবে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে ।

ডে লাইট এ ভালো ছবি তোলা যাবে । ছবির কালার রি প্রডাকশন বেশ ভালো। কিন্তু শার্প্নেস এবং ডিটেইলস average । ডাইনামিক রেঞ্জ ডেললাইটে বেশ ভালো ছিলো। আর ফ্রন্ট ক্যামেরা দিয়ে মিডিয়াম কোয়ালিটির সেলফি নেওয়া যাবে। তাছাড়া ফ্লাস থাকাতে কম আলোতে ভালো সেল্ফি নেওয়া যাবে।

ডিভাইসের সিপিইউ তে আছে 1.3 ghz এর mediatek প্রসেসর আর গ্রাফিক্স প্রসেসিং এর জন্য আছে Mali 400 mp GPU। শুরুতেই বলেছিলাম এটি একেবারে এন্ট্রি level er স্পেসিফিকাশন। তাই হেভি গেম খেলতে না পারলেও ডেইলি নরমাল ইউজ এ আপনাকে তেমন একটা হতাশ করবে না। তাছাড়া ১জিবি র‍্যাম আর ৮জিবি রম থাকছে। মোটামুটি পার্ফরমেন্স পাবেন।

মাল্টিটাস্কিং অতোটা স্মুদ হবে না তবে আপনার দেনিন্দন কাজ গুলো চালিয়ে নিতে পারবেন । এতে লোগ্রাফিক্সের নরলাম কিছু গেম খেলেছিলাম। গেমগুলো ঠিক ভাবে রান করলেও মাঝে মাঝে টুকটাক ল্যাগ পাবেন ই অনেক্ষন টানা ব্যাবহার করলে হাল্কা হিটাপ লক্ষ করেছি

এতে আছে 3800mAh এর একটি নন রিমুভেবল ব্যাটারি। ব্যাটারি ব্যাকাপ ছিলো অসাধারণ।ইউজার ইন্টার ফেস স্টক টাইপ হওয়ায় ব্যাটারি ড্রেইন একেবারেই কম । নরমাল ইউজে সারা দিন পার করে নিতে পারবেন এই ডিভাইস্টি দিয়ে ।

এই পর্যন্ত ই সামনে আরো নতুন নতুন সব স্মার্টফোনের রিভিউ নিয়ে হারজির হচ্ছি খুব শিঘ্রই । নতুন রিভিউ নিয়ে আশা পর্যন্ত আশা করি আপনারা সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ্য থাকবেন ।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

« »