ইউটিউবে অর্থ আয় করতে দরকার হবে ১০ হাজার ভিউ।

Apr 8 • নিউজ, সোশ্যাল মিডিয়া • 76 Views • No Comments on ইউটিউবে অর্থ আয় করতে দরকার হবে ১০ হাজার ভিউ।

ইউটিউবে চ্যানেল খুলে তাতে ভিডিও আপলোড করার মাধ্যমে অর্থ আয় করা যায়। এত দিন ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে খুব সহজে অর্থ আয় করার সুযোগ থাকলেও এবারে যথেষ্ট কঠোর হচ্ছে গুগল কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে ১০ হাজার ভিউ পাওয়ার আগ পর্যন্ত নিজেদের চ্যানেল থেকে অর্থ আয় করতে পারবেন না ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউব-এর ভিডিও সরবরাহকারীরা, বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানায় মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যালফাবেট মালিকানাধীন গুগলের এই প্রতিষ্ঠানটি।

ইউটিউবে চ্যানেল খুলে এক ভিডিওর নামে অন্য ভিডিও দিয়ে দর্শকদের ধোঁকা দেওয়ার প্রবণতা ছিল। ‘ভিউ’ বাড়ানোর চেষ্টা হিসেবে অনেক চ্যানেলেই আপত্তিকর কনটেন্ট দেখা গেছে। অনেক সময় ভিডিওর থাম্বনেইলে এক আকর্ষণীয় বিষয়, কিন্তু ভেতরে থাকে বিরক্তিকর ভিডিও। এতে যেমন দর্শক ওই ভিডিওতে বিরক্ত হন, তেমনি বিরক্ত হন বিজ্ঞাপনদাতারা।

এখন থেকে কোনো চ্যানেল নীতিমালা লঙ্ঘন করে কিনা তা যাচাই করে দেখবে ইউটিউব। এ যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেখবে ওই চ্যানেল অর্থ আয় করার উপযুক্ত কিনা, এ কথা বলা হয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যবিষয়ক মার্কিন সাইট বিজনেস ইনসাইডার-এর প্রতিবেদনে। এ ছাড়া বিজ্ঞাপনদাতাদের বিজ্ঞাপন যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত চ্যানেলে পোস্ট না হয়, তা খেয়াল করতে থার্ড পার্টির সঙ্গে কাজ করবে গুগল। ইউটিউব ভিডিওতে যাতে চরমপন্থী বিষয়বস্তুর সঙ্গে বিজ্ঞাপন না দেখায়, সে ভয়ে বিজ্ঞাপনদাতারা পিছু হটছে। তাই বিজ্ঞাপনদাতাদের হাতে অধিকতর নিয়ন্ত্রণ দিচ্ছে গুগল।

ইউটিউব-এর পণ্য ব্যবস্থাপনাবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যারিয়েল বারডিন বলেন, “কয়েক সপ্তাহের মধ্যে, ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম (ওয়াইপিপি)-এর জন্য আবেদন করা নতুন নির্মাতাদের জন্য আমরা একটি যাচাই প্রক্রিয়া চালু করতে যাচ্ছি। একজন নির্মাতা তার চ্যানেলে ১০ হাজার লাইফটাইম ভিউ পাওয়ার পর আমরা তাদের কার্যক্রম আমাদের নীতিমালা লঙ্ঘন করে কিনা তা যাচাই করব।”

তিনি জানান, গুগল ম্যানুয়ালি বিজ্ঞাপন মেলানো আর নীতিমালা লঙ্ঘন যাচাইয়ে সময় বাড়িয়েছে। আশা করা যায়, গুগল এমন পণ্য তৈরি করতে পারবে যা উগ্রপন্থী কনটেন্টগুলোকে র‍্যাংকিংয়ে এমনভাবে নিচে নামাবে যা সামাজিক মাধ্যমগুলোর চেয়েও ভালোভাবে হবে। তিনি বলেন, “কোনটি সবচেয়ে বেশি উপযুক্তি আর কোনটি সবচেয়ে কম তা শনাক্ত করতে আমরা খুবই ভালো। কম্পিউটারের জন্য ক্ষতিকর, ভুল পথে নিতে পারে এমন আর ভুল তথ্য শনাক্ত করা সম্ভব হওয়া উচিত।”

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে টাইমস নিউজপেপার অব লন্ডন ইউটিউব থেকে বিজ্ঞাপন সরিয়ে নিলে প্রথম ধাক্কা খায় গুগল। পরে এটিঅ্যান্ডটি, ভেরিজনের মতো প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন সরিয়ে নিয়েছে। এরপর থেকে বিজ্ঞাপন নীতিমালার ক্ষেত্রে কঠোর হয়েছে গুগল। এখন তাই ইউটিউব চ্যানেল খুলে অর্থ আয় করতে গেলে প্রকৃত কনটেন্ট সরবরাহ করে দর্শক টানতে হবে। তা না হলে চ্যানেলের জন্য অর্থ দেবে না গুগল। তথ্যসূত্র: এএফপি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

« »